টাঙ্গুয়ার হাওরে সাকার মাছ : বিপর্যয়ের আগেই প্রতিরোধ জরুরি
- আপলোড সময় : ১৭-০৯-২০২৬ ০৮:০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৭-০৯-২০২৬ ০৮:০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন
রামসার সাইট হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত টাঙ্গুয়ার হাওরে রাক্ষুসে সাকার মাছের উপস্থিতির খবর নিঃসন্দেহে গভীর উদ্বেগের। যে হাওর দেশের মিঠাপানির মাছ, জলজ উদ্ভিদ ও অসংখ্য প্রাণীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়স্থল, সেখানে একটি আগ্রাসী বিদেশি প্রজাতির মাছের বিস্তার ভবিষ্যৎ প্রতিবেশব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিষয়টি তাই নিছক নতুন একটি মাছের সন্ধান পাওয়ার ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
হাওর ব্যবস্থাপনায় যুক্ত সিএনআরএসের পক্ষ থেকে টাঙ্গুয়ার হাওরে একাধিকবার সাকার মাছ পাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসা এবং দেশের অন্যান্য হাওরেও জেলেদের জালে মাছটি ধরা পড়ার তথ্য পরিস্থিতির ব্যাপকতা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। দিরাইয়ের চাপতির হাওর, ছাতকের হলদিউড়া ও দেখার হাওরসহ বিভিন্ন জলাশয়ে সাকার মাছের উপস্থিতির তথ্যও বলছে, এটি হয়তো বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। বরং অগোচরেই মাছটি নতুন নতুন জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
সাকার মাছের সবচেয়ে বড় বিপদ হলো- প্রতিকূল পরিবেশেও এটি টিকে থাকতে পারে এবং দ্রুত বংশবিস্তার করতে সক্ষম। জলজ উদ্ভিদ, কীটপতঙ্গ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে। দেশি মাছের খাদ্য ও প্রজননক্ষেত্রের ওপর চাপ সৃষ্টি হলে ধীরে ধীরে দেশি প্রজাতির মাছের সংখ্যা কমে যেতে পারে। এর প্রভাব শুধু জীববৈচিত্র্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; হাওরনির্ভর জেলে সম্প্রদায়ের জীবন-জীবিকা, স্থানীয় অর্থনীতি ও দীর্ঘদিনের জলজ সংস্কৃতিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
আরও উদ্বেগের বিষয়, ২০২৩ সালে সাকার মাছ নিষিদ্ধ হওয়ার পরও এর বিস্তার ঠেকাতে কার্যকর ও দৃশ্যমান নজরদারি কতটা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন উঠেছে। শুধু জেলেদের সচেতন করার উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। হাওর, বিল, নদী ও জলাশয়ে নিয়মিত নজরদারি, বৈজ্ঞানিক জরিপ এবং আক্রান্ত জলাশয় চিহ্নিত করে দ্রুত নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম চালাতে হবে।
টাঙ্গুয়ার হাওরের মতো স্পর্শকাতর রামসার এলাকায় বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে। মৎস্য, পরিবেশ, বন ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে দ্রুত একটি কার্যকর কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। কোথা থেকে সাকার মাছ ছড়িয়েছে, কোন কোন জলাশয়ে এর বিস্তার ঘটেছে এবং কীভাবে তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব - এসব বিষয়ে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান জরুরি।
একটি আগ্রাসী প্রজাতি যখন বিস্তার লাভ করে, তখন পরে তা নিয়ন্ত্রণ করা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। তাই বিপর্যয় দৃশ্যমান হওয়ার অপেক্ষা না করে এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে। জেলেদের জালে সাকার মাছ ধরা পড়লে তা পুনরায় পানিতে না ছাড়ার বিষয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে পরিকল্পিতভাবে মাছটি অপসারণের উদ্যোগ নিতে হবে।
টাঙ্গুয়ার হাওর শুধু সুনামগঞ্জের স¤পদ নয়; এটি বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি ও জীববৈচিত্র্যের সম্পদ। এই সম্পদ রক্ষায় সাকার মাছের আগ্রাসনকে এখনই গুরুত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে। আজকের সতর্কতা ও কার্যকর পদক্ষেপই পারে আগামী দিনের বড় পরিবেশগত বিপর্যয় ঠেকাতে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদকীয়